(৩৪৪) বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়েছে

Monday, April 11, 2011 Unknown
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ এলেই অনিবার্যভাবে উঠে আসে ১৯৯৬ সালের কথা এবারের কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হিসেবে এরই মধ্যে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের কেউ কেউ ১৯৯৬ সালেও ছিলেন কেলেঙ্কারির নায়ক তবে এবারের কারসাজির কারিগরদের বেশির ভাগই নতুন মুখ ১৯৯৬ সালে ব্যবসায়ী নেতা সালমান এফ রহমানের নাম এসেছিল সরাসরি এবার ভিন্নভাবে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি ডিএসইর সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমানের নাম এসেছে দুবারই দুজনের ব্যাপারে সরকারকে বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়েছে এবারের তদন্ত কমিটি ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার আসামি ছিলেন বেঙ্মিকো গ্রুপের পরিচালক সালমান এফ রহমান, সোহেল এফ রহমান, ডি এইচ খান; শাইনপুকুরের পরিচালক সালমান এফ রহমান, সোহেল এফ রহমান এবি সিদ্দিকুর রহমান; এপেঙ্ ফুডের জাফর আহমেদ . জহুর আহমেদ; ইমতিয়াজ হোসেন অ্যান্ড কম্পানির মালিক ইমতিয়াজ হোসেন, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চিটাগাং সিমেন্টের আবু তালেব, রাকিবুর রহমান এস শহীদুল হক বুলবুল আরো ছিলেন রূপম অয়েল অ্যান্ড কিডস লিমিটেডের নূরুন্নবী, হেমায়েত উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ সাদেক, সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ, শরীফ আতাউর রহমান ইকবাল হোসেন; আমাম সি ফুডের জাফর আহমেদ . জহুর আহমেদ; ফার্স্ট ক্যাপিটালের রেজওয়ান বিন ফারুক এম কে এম মহিউদ্দিন; দোহা সিকিউরিটিজের কে এম শামসুদ্দোহা, এসইএসের রুনা আলম সাবেদ সিদ্দিকী; প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের আবদুর রউফ চৌধুরী, মশিউর রহমান, সৈয়দ এইচ চৌধুরী অনু জায়গীরদার; চিক টেঙ্টাইলের মাকসুদুর রহমান ইফতিয়ার মোহাম্মদ; সিকিউরিটিজ কনসালট্যান্টের জি আলম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ খান প্রফেসর মাহবুব আহমেদ মামলায় অভিযুক্ত কম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল শাইন পুকুর হোল্ডিংস লিমিটেড, বেঙ্মিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চিটাগাং সিমেন্ট, আমাম সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের রূপম অয়েল অ্যান্ড ফিডস লিমিটেড, সিঙ্গার বাংলাদেশ, চিক টেঙ্ লিমিটেড, মার্ক শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, এঙ্লেশিওর সুজ লিমিটেড এবং অ্যাপেঙ্ ফুডস লিমিটেড অভিযুক্ত ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ইমতিয়াজ হোসেন অ্যান্ড কম্পানি, ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এসইএস কম্পানি লিমিটেড, প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এইচএমএমএস ফিন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্সি অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, অ্যাসোসিয়েটস সিকিউরিটিজ কনসালট্যান্টস লিমিটেড, শাকিল রিজভী, কাজী এনায়েতুর রহমান, খোরশেদ আলম এবং দোহা সিকিউরিটিজ ওই সময়ের তদন্ত কমিটি ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ সরকারের কাছে যে রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে কিছু সুপারিশসহ প্রতারণা কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বৃদ্ধি দর পতনের ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ দেওয়া হয় 
The government should not focus on the Securities and Exchange Commission (SEC) alone to blame for the country’s biggest share market scam. Bangladesh Bank could not avoid its regulatory lapses too.

Talking to daily sun, experts put forward the views as their eyes shifted to the central bank along with the SEC, which has become the scapegoat by the probe body.

"The role of Bangladesh Bank should have been more strong and timely in dealing with the commercial banks’ involvement in the market," said economist Dr Debapriya Bhattachariya.

The experts observed that until now all blames fell on only SEC as a regulator.

Khondaker Ibrahim Khaled, probe committee chief, said he highlighted the regulatory lapses by the central bank officials in some decision making process in 2009 and 2010, which resulted in market bubbles.

Many observers, including the Finance Ministry officials, said the probe report slightly criticised the central bank activities and held its responsibility for the disaster. They expected further criticisms on the BB role.

Ibrahim Khaled, however, said that he tried his best to find out the responsibilities of regulators and share traders, explicitly in a very short period of time.

Economist Debapriya Bhattacharya observed that the BB could not avoid the blame. "No doubt, SEC has played the most devastating role."

However, he said other agencies and institutions having stakes in the share market possibly failed to perform the need of oversight functions.

"For example, BB should have come down more strongly and much earlier to arrest the over exposure of the commercial banks to the market," he added.

Because of the overexposure of some commercial banks, the share market experienced bullish trend in most part of the last year. The general index of Dhaka Stock Exchange (DSE) reached highest ever level at 8,918 points on December 5 last year from 4,568 on January 3, 2001.

The country’s elderly and female savers and hundreds of thousands of unemployed young people have entered into the overheated market as a record 1.57 million Beneficiary Owners (BO) accounts, more than half of the total investors, entered into the market in 2010.

Debapriya pointed out that the BB should also have more effectively track down the money commercial banks had invested in the share market.

(৩৪৩) 'কা' বললেই 'কাক' বুঝে ফেলে

Monday, April 11, 2011 Unknown
মাসাধিককাল আগে এক সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছিল গণভবনে কথা প্রসঙ্গে তাঁকে বলেছিলাম শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কথা তিনি বলেছিলেন, 'ব্যাপারটি খুঁটিয়ে দেখার জন্য একটা তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি' বলেছিলাম, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই কমিটির প্রধান দায়িত্ব যাঁকে দিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত সাহসী, নির্মোহ সত্যানুসারী ব্যক্তি তাঁর দেওয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন তো? তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিয়েছিলেন, 'অবশ্যই, সে জন্যই তো তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি' বলেছিলাম, ব্যবস্থা নিলে সরকারের ইমেজ বাড়বে
এই কথোপকথনের মাসাধিককাল পরে তদন্ত সম্পন্ন হলো এবং তদন্ত রিপোর্ট জমাও দেওয়া হলো সে সময় বিস্মিত হয়ে শুনলাম, সরকারের প্রবীণ সদস্য মাননীয় অর্থমন্ত্রী বললেন, রিপোর্ট প্রকাশিত হবে তবে নামগুলো বাদ দিয়ে আমাদের দেশের মানুষ যথেষ্ট সচেতন 'কা' বললেই 'কাক' বুঝে ফেলে অতএব, মাননীয় অর্থমন্ত্রীর এই ইতস্তত ভাব থেকে তাদের বুঝতে এতটুকু দেরি হলো না যে এর পেছনে এমন কোনো শক্তিধর মহল আছে, যার কাছে স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও অসহায় এবং সন্ত্রস্ত
ইতিমধ্যে বিরোধী দল, এমনকি সরকারি দল মহাজোটের অংশীদারদের পক্ষ থেকেও নামধামসমেত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের দাবি উঠতে থাকল তদন্ত কমিটি গঠনের সময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এই কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছিল তারাও এখন সমস্বরে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের দাবি তুলছে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময় বলেছেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী দুর্নীতিবাজ লোক যে দলেরই হোক, তার কোনো ক্ষমা নেই এমনকি কেউ যদি তাঁর দলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত থাকে, তাহলেও নয় তাঁর এই ঋজু অবস্থানকে সবাই বিশ্বাস করেন কারণ দায়িত্ব গ্রহণের পর অসমসাহসিকতার সঙ্গে তিনি বিডিআর বিদ্রোহজনিত ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করেছেন আইনের স্বাভাবিক নিয়মে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে তাঁর সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে এবং অনেককে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে; আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রকে উৎখাতের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে, যা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রশংসা কুড়িয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন, শেয়ারবাজারের বিপর্যয় ছিয়ানব্বই সালে তাঁর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকারকে কী বিব্রতকর অবস্থায়ই না ফেলেছিল! তাই তিনি এবারকার শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির জন্য তদন্ত কমিটি করেছেন এমন এক ব্যক্তির নেতৃত্বে, যাঁর সততা সাহসিকতার অসংখ্য নজির রয়েছে তিনি কোনো সরকারের আমলেই তাঁর অফিসকক্ষ থেকে জাতির জনকের ছবি সরাননি_কোনো অবস্থাতেই কারো রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নিজের নৈতিক অবস্থানকে নতজানু করেননি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রণয়নের ভেতর দিয়েও তিনি তাঁর সেই নৈতিকতা সততারই প্রমাণ দিয়েছেন
এই সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার অধিকার দিয়েছে বলেই প্রচারমাধ্যম সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছে পুরো তথ্য কালের কণ্ঠ প্রকাশ করছে পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন এখন প্রয়োজন ব্যাপারে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণের যারা এই বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী আছে না আছে সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো, তাদের ভূমিকা জনগণের বিপক্ষে, গণতান্ত্রিক সরকারের বিপক্ষে, দেশ জাতির উন্নয়নের বিপক্ষে সংকীর্ণ স্বার্থ যদি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য অকল্যাণ আনে তাহলে তো সেখানে শক্তভাবেই দাঁড়াতে হবে আমরা জানি, মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হলেও শেয়ার বিপর্যয়ের কারণে বিপর্যস্ত ৩০ লাখ পরিবার তাঁর পক্ষে দাঁড়াবে; তাঁর পক্ষে দাঁড়াবে দেশের সৎ-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ কারণ তিনি ক্ষমতায় এসেছেন এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থনের ওপর ভর করেই
তিনি দৃঢ় পদক্ষেপ নিলে গোটা দেশই দাঁড়াবে তাঁর পাশে
আবেদ খানThe government should not focus on the Securities and Exchange Commission (SEC) alone to blame for the country’s biggest share market scam. Bangladesh Bank could not avoid its regulatory lapses too.

Talking to daily sun, experts put forward the views as their eyes shifted to the central bank along with the SEC, which has become the scapegoat by the probe body.

"The role of Bangladesh Bank should have been more strong and timely in dealing with the commercial banks’ involvement in the market," said economist Dr Debapriya Bhattachariya.

The experts observed that until now all blames fell on only SEC as a regulator.

Khondaker Ibrahim Khaled, probe committee chief, said he highlighted the regulatory lapses by the central bank officials in some decision making process in 2009 and 2010, which resulted in market bubbles.

Many observers, including the Finance Ministry officials, said the probe report slightly criticised the central bank activities and held its responsibility for the disaster. They expected further criticisms on the BB role.

Ibrahim Khaled, however, said that he tried his best to find out the responsibilities of regulators and share traders, explicitly in a very short period of time.

Economist Debapriya Bhattacharya observed that the BB could not avoid the blame. "No doubt, SEC has played the most devastating role."

However, he said other agencies and institutions having stakes in the share market possibly failed to perform the need of oversight functions.

"For example, BB should have come down more strongly and much earlier to arrest the over exposure of the commercial banks to the market," he added.

Because of the overexposure of some commercial banks, the share market experienced bullish trend in most part of the last year. The general index of Dhaka Stock Exchange (DSE) reached highest ever level at 8,918 points on December 5 last year from 4,568 on January 3, 2001.

The country’s elderly and female savers and hundreds of thousands of unemployed young people have entered into the overheated market as a record 1.57 million Beneficiary Owners (BO) accounts, more than half of the total investors, entered into the market in 2010.

Debapriya pointed out that the BB should also have more effectively track down the money commercial banks had invested in the share market.

(৩৪২) উত্থান পর্ব::পতন পর্ব

Monday, April 11, 2011 Unknown
দেশের পুঁজিবাজারের বিরাট উত্থান বা স্ফীতি পর্বে যেসব ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান শীর্ষ ক্রেতা ছিল, পতন বা ধস পর্বেও ঘুরেফিরে তাদের অধিকাংশকে আবার শীর্ষ বিক্রেতা হিসেবে দেখা গেছে
পুঁজিবাজারের অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে কমিটি কাজে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সক্রিয়তাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে গত ২৭ জানুয়ারি গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বক্তব্য উঠে এসেছে এপ্রিল সকালে কমিটির প্রধান প্রতিবেদনটি দাখিল করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে
প্রতিবেদনে বাজারের উত্থান-পতন প্রক্রিয়ায় যেসব ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রেখেছে, তাসেকেন্ডারি বাজারের শীর্ষ ঘটকেরা’ এবংপ্রাক-আইপিও আকাশচুম্বী মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তি সংস্থা’—এমন দুটি ভিন্ন পর্বে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে একই সঙ্গে কমিটি বাজারের উত্থানের দুটি পর্ব চিহ্নিত করেছে
কমিটি বলেছে, পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক (নভেম্বর-ডিসেম্বর) ধস বা পতন কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না আর এবারের ধস ১৯৯৬ সালের ধসের মতোও নয় সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এবং ভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের মূল ঘটনা অনেকটা পর্দার অন্তরালে প্রাথমিক বাজারের কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত এটি এসইসির সমর্থন-সহায়তায় ইস্যুয়ার, ইস্যু ব্যবস্থাপক, মূল্যায়নকারী (ভ্যালুয়ার), চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট এবং প্লেসমেন্টধারীদের একটি শক্তিশালী চক্রের অবৈধ যোগসাজশের (সিন্ডিকেশন) কুফল বলে মন্তব্য করেছে কমিটি
প্রতিবেদন মতে, আইপিও ছাড়ার আগে প্রিমিয়াম, বুক বিল্ডিং এবং প্লেসমেন্টের অপপ্রয়োগে যে বিশাল দরস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছিল, সে চাপই সেকেন্ডারি বাজারে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করে আইপিওর আগে মূল্য কেলেঙ্কারি রোধ করতে এসইসি ব্যর্থ না হলে সম্ভবত এবার বাজারধস হতো না এতে বলা হয়েছে, দুই উত্থান পর্বে আইসিবি অমনিবাস হিসাবে শেয়ার কিনেছিল দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো আর পতনের দুই মাসে আইসিবির মোট বিক্রি দুই হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা বলা হয়, উল্লম্ফন ধস—উভয় সময়েই সিন্ডিকেট আইসিবির অমনিবাস হিসাবের আড়ালে খেলা করেছিল, এটা প্রায় নিশ্চিত
উত্থান পর্ব: প্রতিবেদনে বাজারে বুদ্বুদ সৃষ্টি বা স্ফীতির প্রথম সময়কাল বিবেচনা করা হয়েছে ২০০৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বরকে সময় বাজারের সূচক দুই হাজার ৮০০ পয়েন্ট থেকে চার হাজার ৫০০ পয়েন্টে ওঠে তারপর আবার ২০১০ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে সূচক ওঠে চার হাজার ৯৪১ থেকে পাঁচ হাজার ৬১২ পয়েন্টে সময়কালকে দ্বিতীয় পর্ব বলছে কমিটি সময় মূল্যবৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিতভাবে শেয়ার কেনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদন অনুসারে, এই দুই সময়কালে বাজারের প্রায় একই চক্র বা সিন্ডিকেট কাজ করেছে ক্ষেত্রে আইসিবির ভূমিকা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও ২০০৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বড় আকারে ট্রিগার ক্রয়ে যোগ দেয় ১৩টি অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে আইসিবি দুই মাসে কিনে নেয় ৭৪০ কোটি টাকার শেয়ার অঙ্ক এক হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে
প্রতিবেদন অনুসারে আইসিবির এসব অমনিবাস হিসাবের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে পরিচয় গোপনকারী খেলোয়াড়েরা, যার দায়িত্ব আইসিবি অস্বীকার করতে পারে না এসব ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াকুব আলী খোন্দকার, গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মো. খলিলুজ্জামান, মো. শহীদুল্লাহ, আরিফুর রহমান প্রমুখ ছাড়া আবু সাদাত মো. সায়েম নামের এক ব্যক্তি একাধিক হিসাবেও শেয়ার কিনেছেন আর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এবি ব্যাংক, উত্তরা ফিন্যান্স, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পূবালী ব্যাংক এরা বুদ্বুদ সৃষ্টিকারী ক্রয়ে অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে উত্থান পর্বের প্রথম দফায় যারা শীর্ষ ক্রেতা ছিল, দ্বিতীয় দফায়ও (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি, ২০১০) তাদের অধিকাংশই শীর্ষ ক্রেতা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় সময় আটটি অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে আইসিবি কিনে নেয় এক হাজার ১৪৩ কোটি টাকার শেয়ার এখানে নাম এসেছে গোলাম মোস্তফা, আরিফুর রহমান, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, ইয়াকুব আলী খোন্দকার, আবদুল মতিন, শাহাদাত হোসেন প্রমুখের আর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আগেরগুলোসহ নতুন যোগ দেয় ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স ইত্যাদি
পতন পর্ব: কমিটির মতে, উত্থান যেহেতু হয়েছে, পতনও অনিবার্য ছিল আর এই পতনের মূলে আবার ছিল উল্লিখিত দুই সময়কালের উল্লম্ফন প্রতিবেদন অনুসারে, সময়ের শীর্ষ খেলোয়াড়েরা বাজার অতিরিক্ত তেজীকরণে অবদান রেখেছে তবে এদের আন্তসংযোগ (নেক্সাস) নির্ণয় করা না গেলে আইন ভঙ্গকারী বলা সংগত হবে না বলে কমিটি মনে করছে
বাজারেরপতন পর্ব’ ধরা হয়েছে ২০১০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরকে, যাকেঝড়ের পূর্ব সময়’ বলেও অভিহিত করেছে কমিটি ২০১০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে বাজারে কমবেশি আট হাজার ৩০০ পয়েন্টে লেনদেন চলছিল প্রতিবেদনে পতন পর্বের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বাজারে উত্থানের দুই পর্বে যেসব ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান শীর্ষ ক্রেতা ছিল, তাদের অধিকাংশই ২০১০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের পতন পর্বে ছিল শীর্ষ বিক্রেতা নভেম্বরে নয়টি অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে এক হাজার ৩৭১ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বরে নয়টি অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে ৯৭৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে আইসিবি
প্রতিবেদনে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসকে অস্থিরতার মাস বলে চিহ্নিত করা হয়েছে বলা হয়েছে, মাসের শীর্ষ বিক্রেতারাও ২০১০ সালের বুদ্বুদ বিস্ফোরণ প্রক্রিয়াকালে শীর্ষ বিক্রেতা ছিল জানুয়ারিতেও এবি ব্যাংক, কে এম আরিফুর রহমান, আমিন রেজওয়ানী, এলিজা রহমান, মো. ভাই নুরজাহান হুদা, মো. খলিলুজ্জামান, রেহানা খান মজলিশ, নৃপেন চৌধুরী, রিচার্ড ডি রোজারিও, সারা খন্দকার, ইয়াকুব আলী খোন্দকার, ড্রিম হোল্ডিং, ড্রিমল্যান্ড হোল্ডিং, সৈয়দ আবু জাফর, সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, রাশেদা আক্তার মায়া প্রমুখ সক্রিয় ছিলেন
এঁদেরসম্ভাব্য সন্দেহজনক ম্যানিপুলেটর’ হিসেবে অভিহিত করে হিসাবের কেওয়াইসি (গ্রাহক তথ্যাদি) পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে কমিটি এই সময়কালে শীর্ষ বিক্রেতা হিসেবে ফ্রন্টিয়ার ফান্ড, আইসিবি অমনিবাস, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো লিমিটেড, এভারেস্ট ক্যাপিটাল, যারা নামরিন, সোমা আলম রহমান, আরিফুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া, মো. খলিলুজ্জামান, কাজী ইউসুফ খালেদ প্রমুখ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে
প্রতিবাদ: এপ্রিল প্রকাশিতকারসাজিতে জড়িত ৬০ ব্যক্তি’ শীর্ষক সংবাদে ডা. এইচ বি এম ইকবালের নাম থাকায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী এম মোকছাদুল ইসলাম লিখিত প্রতিবাদপত্রে তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক শেয়ারবাজার ধসের সঙ্গে তাঁর মক্কেল কোনোভাবেই জড়িত নন, বরং সব নিয়ম মেনেই তিনি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য তাঁর আয়কর নথিতে যথাযথভাবে উল্লেখ করেছেন

Blog Archive