আজকের শেয়ার বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার ফের তা নিম্নমুখী হয়েছে
দেশের প্রধান দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) টানা দুইদিন সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার ফের তা নিম্নমুখী হয়েছে। সারা দিন বাজারে সূচকের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও লেনদেনের শেষ দিকে তা নামতে থাকে। যদিও গত কয়েকদিন লেনেদেনে চাঙ্গাভাব ছিল।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হলেও কয়েকদিন শেয়ারবাজারের লেনদেন অগ্রগতি হয়। কারণ হরতাল-অবরোধে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে বিনিয়োগকারীরা। ফলে বাজার স্বাভাবিক লেনদেনে ফেরে। তবে আজ হঠাত্ করেই লেনদেনের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে যায়। এ অবস্থায় বাজারে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামের পাশাপাশি কমে সূচকের পরিমাণ। এমনকি লেনদেনও গতকালের চেয়ে অনেকটা কমে যায়।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, লেনদেন শুরুর প্রথম ৩০ মিনিটে ডিএসই-এক্স সূচক আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৪ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৭০ পয়েন্টে পৌঁছে। তবে এর পর থেকেই সূচক নামতে থাকে। বেলা ১১টার দিকে সূচক গতকালের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে যায়। আর বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৪ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৩১৯ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। এর পর দুপুর দেড়টার দিকে সূচক কমে ৪১ পয়েন্টে। আর দিন শেষে সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে ৩৪ দশমিক ২০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ২৯৯ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে গিয়ে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মোট ২৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ডিবেঞ্চার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ১৭৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। মোট লেনদেন হয়েছে ৫৬৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা গতকালের চেয়ে ১৫২ কোটি ৩০ লাখ টাকা কম। শেয়ার ও ডিবেঞ্চার বিক্রির পরিমাণ ১৪ কোটি ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭০টি।
দিন শেষে ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশে রয়েছে- এনভয় টেক্সটাইল, ডেল্টা লাইফ, গোল্ডেন সন, জেনারেশন নেক্সট, ডেল্টা স্পিনার্স, আরএন স্পিনিং, ইউনাইটেড এয়ার, বেঙ্গল উইন্ডসর, গোল্ডেন হারভেস্ট ও বিচ হ্যাচারি।
এদিকে দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ সারা দিন একই অবস্থা বিরাজ করেছে। সকাল ১১টা নাগাদ সিএসই-এক্স সূচক আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ৮ হাজার ৫১২ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। তবে এর পর থেকেই সূচক নামতে থাকে। বেলা ১১টার দিকে সূচক গতকালের চেয়ে ২১ পয়েন্ট কমে যায়। আর বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৪ দশমি ৯৬ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৪৫২ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। এর পর দুপুর দেড়টার দিকে সূচক কমে ৯৩ পয়েন্টে। আর দিন শেষে সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে ৭৪ দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৪৩৬ দশমিক ১৩ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ সিএসইতে লেনদেন হয়েছে মোট ২২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ডিবেঞ্চার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৬টির, কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। শেয়ার ও ডিবেঞ্চার লেনদেনের পরিমাণ ২ কোটি ১০ লাখ ৫৬ হাজার ২৩২টি। মোট লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার ৯৪৯ টাকা, যা গতকালের চেয়ে ২৩ কোটি ২২ লাখ ৩১ হাজার ৭০২ টাকা কম।
দিন শেষে সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ পাঁচ কোম্পানি হলো- এনভয় টেক্সটাইল, ফারইস্ট ফিন্যান্স, বিচ হ্যাচারি, রহিমা ফুড ও বেক্সিমকো।
শেয়ার-বাজারে লেনদেনে অগ্রগতি হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১০-১২-২০১৩
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হলেও শেয়ারবাজারে লেনদেনে অগ্রগতি হচ্ছে। হরতাল-অবরোধে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে বিনিয়োগকারীরা। ফলে বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন চলছে। এতে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ বাড়ছে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। গতকাল উভয় শেয়ারবাজারে লেনদেন বাড়লেও শেয়ারের দরে ছিল মিশ্রভাব। তবে আগের দিনের ধারাবাহিকতায় এদিনও ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারগুলো দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে অবস্থান নেয়।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নির্বাচন সামনে রেখে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনে চলমান তত্পরতার মধ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়েছে। বিরোধী জোটের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির সময়সীমা আরো বাড়ানো হয়েছে। আর আজও হরতাল ডেকেছে জামায়াত। রাজনৈতিক সংকটের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি এখনো হয়নি। তবে হরতাল-অবরোধে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে দেশের মানুষ। সংঘাত-সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যেও কাজ সম্পাদনে ছুটছে তারা। আর বিনিয়োগকারীরাও ফিরছেন শেয়ারবাজারে। ফলে ধীরে ধীরে লেনদেনে অগ্রগতি হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ায় গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১২০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বেশি। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কেনাবেচা হয় ৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড, যা আগের দিনের চেয়ে ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা বেশি।
এদিকে আগের দিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি লক্ষ করা যায়। উত্পাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকা ও তুলনামূলক দুর্বল স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারই বাড়ে বেশি। ডিএসইর বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ ২০টি কোম্পানির মধ্যে ১৬টিই দুর্বল মৌলভিত্তির। এর মধ্যে আজিজ পাইপস, রহিমা ফুড করপোরেশন, সমতা লেদার, নর্দার্ন জুট, কেঅ্যান্ডকিউ, হাক্কানী পাল্প অ্যান্ড পেপার, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, বিচ হ্যাচারি, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও ফ্যামিলিটেক্স, দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়।
গতকাল উভয় শেয়ারবাজারে সব ধরনের সূচকের পরিমাণ কমে। দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়লেও মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও বড় মূলধনি অধিকাংশ শেয়ারের দর কমায় সূচকের পরিমাণ কমে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এদিন ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১২ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট কমে ৪২৮৯ দশমিক ৮২ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে ১৪৯৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ২২ পয়েন্ট ও সিএসই-৩০ সূচক ৩৮ পয়েন্ট কমে।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হওয়া ২৯১ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৩২টির দর বাড়ে, ১৩০টির কমে এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির দর। অন্যদিকে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৯৩টির দর বাড়ে, কমে ১০২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির দর।
ডিএসইর খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, কেবল তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি কোম্পানিরও শেয়ারের দর গতকাল কমেনি। এ খাতের ছয়টি কোম্পানিরই দর বাড়ায় সার্বিকভাবে ২ শতাংশ দর বেড়েছে। এছাড়া কাগজ ও মুদ্রণ খাতের একমাত্র কোম্পানি হাক্কানী পাল্প অ্যান্ড পেপারও সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে (প্রায় ১০ শতাংশ) কেনাবেচা হয়। আর ব্যাংকিং ও বীমা খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর কমলেও বাড়ে অধিকাংশ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক শেয়ারের দর। এতে সার্বিকভাবে দেড় শতাংশের বেশি বাড়ে এ খাতের শেয়ারের দর। অন্য খাতগুলোয় ছিল মিশ্রভাব।
সার্বিকভাবে অগ্রগতি হওয়ায় গতকাল খাতওয়ারি লেনদেনে শীর্ষে থাকা বস্ত্র খাতের লেনদেন কমে ১৪ কোটি টাকা। এদিন খাতটির লেনদেন হওয়া ৩০ কোম্পানির ১৬২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়; যা মোট লেনদেনের ২৫ শতাংশের বেশি। এর পরের অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাতের ২৪ কোম্পানির ৮১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২৪ কোম্পানির পৌনে ৭৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন। একক কোম্পানি হিসেবে এদিন জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস কোম্পানির সর্বাধিক ৩৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো— জেনারেশন নেক্সট, ডেল্টা লাইফ, গোল্ডেন হারভেস্ট, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সেন্ট্রাল ফার্মা, আরএন স্পিনিং, বেঙ্গল উইন্ডসর, গোল্ডেন সন্স, আরগন ডেনিমস ও ওরিয়ন ফার্মা।
দর বৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো— রহিমা ফুড, সেন্ট্রাল ফার্মা, হাক্কানী পাল্প, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ১ম প্রাইম ফিন্যান্স মি. ফা., লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, বিচ হ্যাচারি, গোল্ডেন হারভেস্ট, ফাইন ফুডস ও ইবিএল এনআরবি মি. ফা.।
অন্যদিকে দর হ্রাসে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো— লিবরা ইনফিউশন, ইস্টার্ন ক্যাবলস, রংপুর ফাউন্ড্রি, ৪র্থ আইসিবি, মেট্রো স্পিনিং, মিথুন নিটিং, জুট স্পিনার্স, আলহাজ টেক্সটাইল, বিডি ল্যাম্পস ও রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
শেয়ার-এজিএম-AGM-প্রিমিয়ার সিমেন্ট-নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের খালেদ রোডে চিটাগং ক্লাবে
অনিবার্য কারণবশত প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ ও স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের খালেদ রোডে চিটাগং ক্লাবে কোম্পানিটির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে কোম্পানিটির কারখানা প্রাঙ্গণে এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত হিসাব বছরে এর কর-পরবর্তী নেট মুনাফা হয়েছে ৪৯ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৫ টাকা ও শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) ৩২ টাকা ৬০ পয়সা।
ডিএসইতে গতকাল এ শেয়ারের দর বাড়ে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বা ৪ টাকা ৫০ পয়সা। সর্বশেষ লেনদেন হয় ১০৬ টাকা ১০ পয়সায়। দিন শেষে দর দাঁড়ায় ১০৪ টাকা ২০ পয়সা, যা আগের কার্যদিবস ছিল ১০১ টাকা ৬০ পয়সা। গতকাল ১ হাজার ৪২৯ বারে কোম্পানিটির মোট ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৬০০ শেয়ার লেনদেন হয়। গত এক মাসে এর সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা ২০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ৯৬ টাকা ৯০ পয়সা। গত ছয় মাসের মধ্যে এর সর্বোচ্চ দর ছিল ১৪৯ টাকা ৩০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ৯৫ টাকা ৫০ পয়সা। এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর রিজার্ভের পরিমাণ ১৭৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
শেয়ার লভ্যাংশ # শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ ইস্টার্ন ক্যাবলস
শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ পেতে অতিরিক্ত ২২ টাকা খরচ করলেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ইস্টার্ন ক্যাবলসের শেয়ারে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেতে অতিরিক্ত এ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন তারা। এদিন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এ কোম্পানির শেয়ারটির ক্লোজ প্রাইস ছিল ১০৭ টাকা ২০ পয়সা। এতে একদিনে ২৬ শতাংশ বেশি দরে শেয়ারটি কেনাবেচা হয়।
ইস্টার্ন ক্যাবলসের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারে ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডাররা। আর এ লভ্যাংশ ঘোষণার সংবাদে কোম্পানিটির শেয়ারের দর আগের দিনের ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১০৭ টাকা ৩০ পয়সায় উন্নীত হয়। এ হিসাবে একদিনে শেয়ারটির দর বেড়েছে ২২ টাকা ৩০ পয়সা। রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন এ কোম্পানির মৌলভিত্তি অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের এত বেশি দরে শেয়ার কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত দুই বছরের মধ্যে শেয়ারটি বর্তমানে সর্বোচ্চ দরে রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিটি ২০১২ সালের জন্যও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা দেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণে ব্যর্থ হওয়ায় ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে এবার ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণায় ‘জেড’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে শেয়ারটির অস্বাভাবিক দর বাড়ে।
এদিকে ২০১৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানিটির সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৭ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৬ টাকা ১০ পয়সা।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে জানা যায়, প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা ৪১ শতাংশ কমেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৭০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ইপিএস ২৯ পয়সা। গত দুই বছরের মধ্যে এর সর্বনিম্ন দর ছিল ৪৯ টাকা ৪০ পয়সা।
১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৬০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২৪ কোটি টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার ২ কোটি ৪০ লাখ; যার মধ্যে সরকার ৫১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে ৪৯ শতাংশ। এর প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা ও ১০০টিতে মার্কেট লট।
Subscribe to:
Posts (Atom)
Blog Archive
- ► 2011 (2088)
